সুরাহ তওবা
لَّيْسَ عَلَى الضُّعَفَاءِ وَلَا عَلَى الْمَرْضَىٰ وَلَا عَلَى الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ مَا يُنفِقُونَ حَرَجٌ إِذَا نَصَحُوا لِلَّهِ وَرَسُولِهِ ۚ مَا عَلَى الْمُحْسِنِينَ مِن سَبِيلٍ ۚ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
﴾৯১) দুর্বল ও রুগ্ন লোকেরা এবং যেসব লোক জিহাদে শরীক হবার জন্য পাথেয় পায় না, তারা যদি পিছনে থেকে যায় তাহলে তাতে কোন ক্ষতি নেই, যখন তারা আন্তরিকতভাবে আল্লাহ ও রসূলের প্রতি বিশ্বস্ত ৷ এ ধরনের সৎকর্মশীলদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন অবকাশই নেই৷ আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করূণাময়৷
=============
=====================
. যারা দীনের খেদমত করার জন্য সর্বক্ষণ উদগ্রীব থাকে তারা যদি কোন সত্যিকার অক্ষমতার কারণে অথবা উপায়-উপকরণ বা মাধ্যম যোগাড় না হওয়ার দরুণ কার্যত খেদমত করতে না পারে তাহলে মনে ঠিক তেমনি কষ্ট পায় যেমন কোন বৈষয়িক স্বার্থন্বেষী ব্যক্তির রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেলে অথবা কোন বড় আকারের লাভের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেলে মনে কষ্ট হয়, তারা বাস্তবে কোন খেদমত না করলেও আল্লাহর কাছে খেদমতাকারী হিসেবেই গণ্য হবে৷ কারণ তারা হাত পা চালিয়ে কোন কাজ করতে পারিনি ঠিকই কিন্তু মানসিক দিক দিয়ে তারা সর্বক্ষণ কাজের মাধ্যেই থাকে৷ এ কারণে তাবুক যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে এক জায়গায় নবী (সা) তার সংগী -সাথীদেরকে সম্বোধন করে বলেন,
------------------------
মদীনায় কিছু লোক আছে যারা প্রতিটি উপত্যকা অতিক্রমকালে এবং প্রতিটি যাত্রার সময় তোমাদের সাথে থেকেছে৷
সাহবীগণ আবাক হয়ে বলেন, মদীনায় অবস্থান করেই , বলেন, হ্যাঁ মদীনায় অবস্থান করেই৷ কারণ অক্ষমতা তাদেরকে আটকে রেখেছিল নয়তো, তারা নিজেরা থেকে যাবার লোক ছিল না৷
لَّيْسَ عَلَى الضُّعَفَاءِ وَلَا عَلَى الْمَرْضَىٰ وَلَا عَلَى الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ مَا يُنفِقُونَ حَرَجٌ إِذَا نَصَحُوا لِلَّهِ وَرَسُولِهِ ۚ مَا عَلَى الْمُحْسِنِينَ مِن سَبِيلٍ ۚ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
﴾৯১) দুর্বল ও রুগ্ন লোকেরা এবং যেসব লোক জিহাদে শরীক হবার জন্য পাথেয় পায় না, তারা যদি পিছনে থেকে যায় তাহলে তাতে কোন ক্ষতি নেই, যখন তারা আন্তরিকতভাবে আল্লাহ ও রসূলের প্রতি বিশ্বস্ত ৷ এ ধরনের সৎকর্মশীলদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন অবকাশই নেই৷ আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করূণাময়৷
=============
. এ থেকে জানা যায় যারা বাহ্যত অক্ষম, তাদের জন্য ও নিছক শারীরিক
দুর্বলতা, রুগ্নতা,বা নিছক অপরাগাত দায়িত্ব থেকে অব্যহতি লাভের জন্য নয়৷
বরং তাদের অক্ষমাতগুলো কেবলমাত্র তখনই দায়িত্ব থেকে অব্যহতি লাভের কারণ
হতে পারে যখন তারা হবে আল্লাহ ও তার রসূলের সত্যিকার বিশ্বস্ত ও অনুগত্য৷
অন্যথায় কোন ব্যক্তির মধ্যে যদি বিশ্বস্ততা না থাকে তাহলে তাকে শুধুমাত্র এ
জন্য মাফ করা যেতে পারে না যে, কর্তব্য পালনের সময় সে রোগগ্রস্ত বা অপরাগ
ছিল৷ আল্লাহ শুধু বাইরের অবস্থাই দেখন না৷ তাই যেসব লোক অসুস্থতার
ডাক্তারী সার্টিফিকেট অথবা বার্ধক্য ও শারীরিক ত্রুটির ওযর পেশ করবে
তাদেরকে আল্লাহর দরবারেও তদ্রূপ অক্ষম গণ্য করা হবে এবং তাদেরকে আর কোন
প্রকার জিজ্ঞেসাবাদের সম্মুখীন হতে হবে না , একথা ঠিক নয়৷ তিনি তো তাদের
প্রত্যেক ব্যক্তির মন -মানসিকতা বিশ্লেষণ করবেন, তার সমগ্র গোপন ও
আপাতদৃষ্ট আচরণ নিরীক্ষণ করবেন এবং তাদের অক্ষমতা কোন বিশ্বস্ত বান্দার
অক্ষমতার পর্যায়ভুক্ত ছিল না, বিদ্রোহীর পর্যায়ভুক্ত তা যাচাই করবেন্ কেউ
কেউ এমন আছে যে, কর্তব্যের ডাক শুনে লাখো লাখো, শুকরিয়া আদায় করে এবং মনে
মনে বলে, বড় ভালো সময়ে আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি৷ নয়তো কোনক্রমেই এ বিপদের
হাত থেকে রেহাই পাওয়া যেতো না এবং অনর্থক আমাকে গঞ্জনা ভুগতে হতো৷ আবার
অন্য একজন এ একই ডাক শুনে অস্থির না হয়ে উঠে বলে হায় কেমন এক সময আমি অসুখে
পড়লাম৷ যখন মাঠে ময়দানে নেমে কাজ করার সময় তখন কিনা আমি বিছানায় শুয়ে শুয়ে
অযথা সময় নষ্ট করছি৷ একজন নিজের রোগকে কর্তব্যের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার
জন্য বাহানা হিসেবে ব্যবহার তো করছিলই এ সংগে সে অন্যদেরকে ও এ কর্তব্য
পালনে বাধা দেবার চেষ্টা করলো৷ অন্যজন বাধ্য হয়ে রোগাশয্যায় পড়ে থাকলেও
বারবার নিজের ভাই -বেরাদার , আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু -বান্ধবদের জিহাদ করতে
উদ্ধুদ্ধ করে চলছিল এবং নিজের সেবা ও শুশ্রূষাকারীদেরকেও বলে চলছিল, আমাকে
আল্লাহর হাতে সোপর্দ করে দিয়ে যাও৷ অষুধ ও পথ্যের ব্যবস্থা কোন না
কোনভাবে হয়ে যাবেই৷ আমার একজনের জন্য আল্লাহর সত্য দীনের সেবায় নিবেদিত
মূল্যবান সময়টি তোমরা নষ্ট করো না৷ একজন অসুস্থতার অজুহাতে ঘরে বসে থেকে
যুদ্ধের সারাটা সময় মানুষের মন ভাংগারবার, দুঃসংবাদ ছড়াবার, যুদ্ধের
প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার এবং মুজাহিদের অনুপস্থিতিতে তাদের পারিবারিক
কাজ করে৷ অন্যজন নিজেকে যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত হবার সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত
হতে দেখে জেহাদের ঘরোয়া অংগনকে (Home front) মজবুত রাখার জন্য নিজের
সাধ্যমতো প্রচেষ্টা চালায়৷ বাহ্যত এরা দুজনই অক্ষম৷ কিন্তু আল্লাহর
দৃষ্টিতে এ দুই ধরনের অক্ষমরা কখনো সমান হতে পারে না৷ আল্লাহ যদি ক্ষমা
করেন তাহলে কেবল এ দ্বিমত জনকেই ক্ষমা করবেন৷আর প্রথমে ব্যক্তি নিজের
অক্ষমতা সত্ত্বেও বিশ্বাসঘাতকা ও নাফরমানীরর অপারাধে অভিযুক্ত হবে৷
وَلَا
عَلَى الَّذِينَ إِذَا مَا أَتَوْكَ لِتَحْمِلَهُمْ قُلْتَ لَا أَجِدُ مَا
أَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ تَوَلَّوا وَّأَعْيُنُهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ
حَزَنًا أَلَّا يَجِدُوا مَا يُنفِقُونَ
৯২) অনুরূপভাবে তাদের
বিরুদ্ধে ও অভিযোগের কোন সুযোগ নেই যারা নিজেরা এসে তোমার কাছে আবেদন
করেছিল, তাদের জন্য বাহনের ব্যবস্থা করতে কিন্তু তুমি বলেছিলে আমি তোমাদের
জন্য বাহনের ব্যবস্থা করতে পারছি না৷ তখন তারা বাধ্য হয়ে ফিরে গিয়েছিল৷
তখন তাদের অবস্থা এ ছিল যে , তাদের চোখে দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল এবং
নিজেদের অর্থ ব্যয়ে জিহাদে শরীক হতে অসমর্থ হবার দরূন তাদের মনে বড়ই কষ্ট
ছিল৷=====================
. যারা দীনের খেদমত করার জন্য সর্বক্ষণ উদগ্রীব থাকে তারা যদি কোন সত্যিকার অক্ষমতার কারণে অথবা উপায়-উপকরণ বা মাধ্যম যোগাড় না হওয়ার দরুণ কার্যত খেদমত করতে না পারে তাহলে মনে ঠিক তেমনি কষ্ট পায় যেমন কোন বৈষয়িক স্বার্থন্বেষী ব্যক্তির রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেলে অথবা কোন বড় আকারের লাভের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেলে মনে কষ্ট হয়, তারা বাস্তবে কোন খেদমত না করলেও আল্লাহর কাছে খেদমতাকারী হিসেবেই গণ্য হবে৷ কারণ তারা হাত পা চালিয়ে কোন কাজ করতে পারিনি ঠিকই কিন্তু মানসিক দিক দিয়ে তারা সর্বক্ষণ কাজের মাধ্যেই থাকে৷ এ কারণে তাবুক যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে এক জায়গায় নবী (সা) তার সংগী -সাথীদেরকে সম্বোধন করে বলেন,
------------------------
মদীনায় কিছু লোক আছে যারা প্রতিটি উপত্যকা অতিক্রমকালে এবং প্রতিটি যাত্রার সময় তোমাদের সাথে থেকেছে৷
সাহবীগণ আবাক হয়ে বলেন, মদীনায় অবস্থান করেই , বলেন, হ্যাঁ মদীনায় অবস্থান করেই৷ কারণ অক্ষমতা তাদেরকে আটকে রেখেছিল নয়তো, তারা নিজেরা থেকে যাবার লোক ছিল না৷